আওয়ার টাইমস নিউজ।
লাইফস্টাইল ডেস্ক: সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মা-বাবার চেষ্টার কমতি থাকে না। কিন্তু অনেক সময় ভালোবাসা, অতিরিক্ত শাসন কিংবা অজান্তের কিছু আচরণই সন্তানের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের বেড়ে ওঠার সময় অভিভাবকদের কিছু সাধারণ ভুল দীর্ঘমেয়াদে তার আত্মবিশ্বাস, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সামাজিক আচরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অতিরিক্ত শাসন বা নিয়ন্ত্রণ
অনেক অভিভাবক সন্তানের ভুল হলেই কঠোর শাসনের পথ বেছে নেন। এতে শিশু ভীতু হয়ে পড়তে পারে এবং নিজের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করে। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সন্তানের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।
অন্যের সঙ্গে তুলনা করা
পরীক্ষার ফল, আচরণ বা দক্ষতা নিয়ে অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করা শিশুদের মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করে। এতে তারা নিজেকে অযোগ্য ভাবতে শুরু করে এবং নিজের প্রতিভা বিকাশে আগ্রহ হারায়।
সন্তানের কথা না শোনা
শিশুরাও তাদের অনুভূতি ও মতামত প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু অনেক সময় অভিভাবকরা তা গুরুত্ব না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। এতে সন্তান মানসিকভাবে গুটিয়ে যেতে পারে এবং মা–বাবার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।
ভুলের জন্য ক্ষমা না চাওয়া
অভিভাবকরাও ভুল করতে পারেন, এটা সন্তানকে শেখানো জরুরি। নিজের ভুল স্বীকার না করলে সন্তান শেখে, ভুল মানেই লুকিয়ে রাখা। এতে তার মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে না।
প্রশংসায় কৃপণতা
সন্তানের ভালো কাজকে স্বীকৃতি না দিলে সে উৎসাহ হারায়। ছোট ছোট সাফল্যের প্রশংসা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।
পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া
ব্যস্ততার কারণে অনেক মা–বাবা সন্তানের জন্য সময় দিতে পারেন না। উপহার বা মোবাইল দিয়ে সেই অভাব পূরণ করার চেষ্টা করা হলেও এতে শিশুর মানসিক চাহিদা পূরণ হয় না। সন্তানদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন অভিভাবকদের সময় ও মনোযোগ।
নেতিবাচক আচরণের উদাহরণ
শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে। তাই সন্তানের সামনে অন্যকে ছোট করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বা নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা হলে সেটিই তারা শেখে।
কী করবেন অভিভাবকরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান লালন-পালনে ভালোবাসা ও শাসনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, নিয়মিত প্রশংসা করা এবং ভুল হলে সহানুভূতির সঙ্গে বোঝানোই সুস্থ মানসিক বিকাশের চাবিকাঠি।
সচেতন অভিভাবকত্বই পারে একটি আত্মবিশ্বাসী, মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে। তাই অজান্তের ভুলগুলো এখনই সংশোধন করাই সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ।