আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে ভোজ্য তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনেক দোকানে বোতলজাত তেল সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও আবার অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে দেশে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানি ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে সেই অনুযায়ী সমন্বয় না হওয়ায় আমদানিকারকদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। এতে করে নতুন করে তেল আমদানির প্রবণতা কমে গেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে।
এদিকে বিক্রেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট কিছু পণ্য নেওয়ার শর্তে সয়াবিন তেল দিচ্ছেন। পাশাপাশি খোলা তেলও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।
পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও তা দিয়ে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে বাজারে চাপ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ভোজ্য তেলের মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় আমদানি কমে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
আগামী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে। তাই কার্যকর তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের কারসাজি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।