আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফ্ল্যাটের বিলাসবহুল চার দেয়ালের মধ্যে এখন আর সেই রাজনৈতিক দাপট নেই, যা আগে ‘খেলা হবে’ বলে হুংকার ছোঁড়ে। নেই কর্মীদের মাঝে সেই উচ্ছ্বাস এবং রাজনীতির মাঠ কাঁপানো তৎপরতা। পরিবর্তে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের ছায়া।
কাদের জানিয়েছেন, দলের বর্তমান অবস্থার মূল কারণ হলো নেতাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করা এবং দলের ক্ষমতা প্রধান নেতা শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল হওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, দলের রথ তখন চলছিল হাসিনার শক্তিতে। বাকি নেতারা আরাম-আয়েশে মগ্ন ছিলেন। সেই অবহেলার ফল আজ আমাদের কাছে এসেছে।
গত ২৩ জানুয়ারি কর্মীরা আশা করেছিলেন যে, শেখ হাসিনার সরাসরি উপস্থিতি বা অন্তত একটি ভিডিও বার্তা দলের পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কেবল একটি অডিও বার্তা দেওয়া হয়, যা মূলত দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে। এর ফলে অনেক নেতার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং তারা কলকাতার আতিথেয়তা ছেড়ে বিদেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কাদের স্বদেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক হলেও তার ফেরার পথ অনিশ্চিত। তিনি বলেন, ভারতের ওপর আমরা নির্ভরশীল হলেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আমাদের নিয়ে ভাবছে না। আমাদের ক্ষমতায় ফেরানো তাদের কাছে খুবই নগণ্য বিষয়। ইউরোপ-আমেরিকা বড় বড় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত, তারা আমাদের নিয়ে ভাবছেই না।
ওবায়দুল কাদের আরও জানান, দলটি এখন রাজনৈতিক হাটে তলানিতে, এবং কেউ তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। অনেক নির্বাসিত নেতা ইতিমধ্যেই ভাবছেন যে, ভারতের ঠান্ডা জলবায়ু ছাড়িয়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া উচিত কি না। তাদের দৃষ্টিতে, আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন শূন্যের কাছাকাছি।
নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দলের অভ্যন্তরীণ নেতাদের দায়িত্ববোধ ও সমন্বয়হীনতার কারণে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই অবস্থার সমাধান না হলে দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে এবং স্বাভাবিক রাজনীতির পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।
সূত্র: আমার দেশ