আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈরুত: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত ও রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে স্মরণকালের ভয়াবহতম বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। গত ১২ জুন (শুক্রবার) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি আঘাত সরাসরি আবাসিক ভবনে লাগায় হতাহতের সংখ্যা এতটা বেড়েছে। হামলার পর পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং ধসে পড়া ভবনের নিচে অনেকেই চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর এক বিবৃতিতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর একটি বড় ধরনের রকেট হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই এই 'প্রি-এম্পটিভ' বা আগাম হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হেনেছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও উত্তর ইসরাইলের গ্যালিলি অঞ্চলে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পর জাতিসংঘ লেবানন সীমান্তে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দুই পক্ষকেই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।