আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রশাসনপন্থি বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতিতে বড় কোনো বিক্ষোভ বা সহিংসতার ঘটনা আর দেখা যাচ্ছে না।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি জানান, গত দুই থেকে তিন দিনে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে রাজপথে অস্থিরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে নির্বাসিত সাবেক ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির আহ্বানে হাজারো মানুষ রাজপথে নামলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়, যা এখনও বহাল রয়েছে। অধ্যাপক ইজাদি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের ইন্টারনেট অবকাঠামো ব্যবহার করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তার মত।
আল জাজিরার অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের প্রধান শহরগুলোর সড়কে সরকার সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছে। বিপরীতে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
অধ্যাপক ইজাদি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের চেয়ে সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের ভূমিকা বেশি ছিল। তার দাবি অনুযায়ী, কিছু গোষ্ঠী পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এসব বিশৃঙ্খলার পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ রয়েছে।