আওয়ার টাইমস নিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জোটকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে আর ‘এক ফোঁটা’ তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। একই সাথে তারা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ইরান কোনো দুর্বল রাষ্ট্র বা ভেনেজুয়েলা নয় যে চাপ প্রয়োগ করে তাদের নত করা যাবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক বিবৃতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই কড়া বার্তা দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা। হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার ওপর পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ইরান স্পষ্ট করেছে, মার্কিন-ইসরাইল জোট যদি তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করে, তবে এই রুট পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের এই নীতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর ক্রমাগত চাপ ও হুমকির জবাবে ইরান তাদের কৌশলগত অবস্থান এবং সামরিক সক্ষমতার জানান দিতেই এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া।