আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, আমাদের জীবনের চেয়েও মা-বোনদের সম্মান আমাদের কাছে অনেক বেশি। কেউ যদি বেয়াদবি করে, তবে তার পরিণতি ভালো হবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো কোনো শক্তির সামনে মাথা নত করেনি, আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করার প্রশ্নই আসে না। ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী মানসিকতা নিয়ে সামনে আসবে, তাদেরও জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। যেমনটি ২০২৪ সালে জনগণ দেখিয়েছে, তেমনি আগামী নির্বাচনে আবারও দেখানো হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার একদিনে দুটি ভোট হবে। একটি ভোট হবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’, আরেকটি ভোট হবে পরিবর্তনের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথম ভোটটি দৃঢ়ভাবে সংস্কারের পক্ষে দিতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একজন আপসহীন কণ্ঠস্বর। তিনি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি বলেই তাকে সহ্য করা হয়নি। যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তারা বাংলাদেশকে তলানিতে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে না। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে ডা. শফিকুর রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এর আগে দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছান জামায়াত আমির। তাকে স্বাগত জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা টাউন ফুটবল মাঠে জড়ো হন। ডা. শফিকুর রহমান মাঠে পৌঁছানোর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো মাঠ।
জনসভা শেষে চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জোট প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।