আওয়ার টাইমস নিউজ
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না এবং জনগণকে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকেরও। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের জনগণও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
যুবসমাজের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান, যেখানে দুর্নীতি, বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায়-অবিচারের স্থান থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের যে কোনো গণআন্দোলন বা পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থই হবে সেই প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি।
সমাবেশে তিনি জনগণকে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অনিয়ম দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ নিরসন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা সমাবেশকে সফল বলে দাবি করেন।