আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের দেশ সাইপ্রাস লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। দেশটির দিকে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি। সাইপ্রাসে বর্তমানে হাজার হাজার ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন হিলি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি সাইপ্রাসকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার ইরানের ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বাহরাইনে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের ঘাঁটি থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে আঘাত হানে। বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রিয়াদ শহরের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। অনেকেই আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখার কথা জানিয়েছেন। এএফপির প্রতিনিধিরাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ঘটনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা এবং ইসরায়েলের তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া যায়। দোহার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে কমপক্ষে ১১টি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় নতুন করে আরও আটজন আহত হয়েছেন। এতে দেশটিতে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিসরে ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এক হাজার ২০০টির বেশি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলা মূলত সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সতর্ক নজর রাখছে।