আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখেছে মিশর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর পুরো দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। তবে এই ঐতিহাসিক অর্জনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বক্তব্যে। তিনি ঘোষণা দেন, এই জয় শুধু মিশরের নয়, ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতিও উৎসর্গ করা হলো।
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর কায়রো, গিজা, আলেকজান্দ্রিয়া, নিউ কায়রোসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন করেন। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি উড়তে দেখা যায় ফিলিস্তিনের পতাকাও। গিজার ঐতিহাসিক পিরামিড লাল আলোয় আলোকিত করে উদযাপন করা হয় এই স্মরণীয় অর্জন।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জন দলীয় ঐক্য, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের ফল। প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবুলিও খেলোয়াড়দের অসাধারণ লড়াইয়ের প্রশংসা করেন।
বেইন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোসাম হাসান বলেন, "এই জয় আমি মিশরের জনগণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করছি। কঠিন সময়েও তারা আমাদের সমর্থন দিয়েছে।"
মিশরের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর গাজাসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা ফিলিস্তিনি সমর্থকদের মধ্যেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপে এবার আরব ফুটবলের উত্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মরক্কোর পর দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মিশর। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহারণ। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ের দিকে।