আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে এখন বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
সংবাদমাধ্যম The Guardian জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব এশিয়া থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা THAAD missile defense system–এর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেন্টাগনের সূত্র বলছে, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এখন ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে একই সময়ে মার্কিন সাময়িকী The American Conservative দাবি করেছে, চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমে যাচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যে কৌশলে একসঙ্গে বহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ চালাচ্ছে, তা প্রতিরোধ করতে প্রচুর ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।