আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি বিদেশি গোয়েন্দা ও এজেন্টদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে সহিংস কার্যক্রমে জড়াচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, বিদেশি শক্তি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। অতীতে নিরাপত্তা বাহিনী ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেন, সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য করেছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতা দুই পক্ষ থেকেই ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, জনগণের উদ্বেগ ও অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে, সে বিষয়েও সরকারকে কঠোর থাকতে হবে।
আধা-সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত শতাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।