আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার অজুহাতে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন ইরানি সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আগের দিন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও যদি আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
মার্কিন হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক, কিশ দ্বীপ ও চাবাহার অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এই হামলার উপযুক্ত ও ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।