আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবার প্রাথমিক দায়ভার সরাসরি তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth-এর ওপর চাপিয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) এক বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম জোরালো সুপারিশ এসেছিল হেগসেথের কাছ থেকেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে থাকা ইরানকে থামাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।
এই বক্তব্যের পর থেকেই হোয়াইট হাউসের ভেতরে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করেছে। জানা গেছে, অভিযানের আগে ট্রাম্প একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন, যেখানে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তর মতবিনিময় হয়।
তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের সবাই এই সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন না। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance শুরু থেকেই বিদেশে নতুন সামরিক জড়িত হওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী ছিলেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেননি, তার অবস্থান প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করেছিল।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রী নয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-সহ আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। অন্যদিকে, কিছু অভিজ্ঞ উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এই অভিযানের ফলে ইরানের ড্রোন উৎপাদন ও নৌ সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ধীরে ধীরে সামনে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনের আগে যুদ্ধের দায় এককভাবে নিজের কাঁধে না রেখে তা ভাগ করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই ট্রাম্প এই অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনের ভেতরে এখন দোষারোপের রাজনীতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।