আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আশঙ্কা করছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সামরিক সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি রয়েছে এবং সে কারণে দেশজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। দেশব্যাপী বড় জনসমাগম সীমিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আগের বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
রবিবার বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পরই সম্ভাব্য ইরানি প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর আগে একই ধরনের ঘটনার পর ইরান সরাসরি ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বা শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমন সময়ে বৈরুতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এ ধরনের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকার করলেও হামলার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আগামী কয়েক দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।