আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানকে নতুন করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে চলমান যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে শর্ত প্রত্যাখ্যান করলে আরও বড় সামরিক হামলার মুখে পড়তে হবে তেহরানকে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ইরান সম্মত হলে ‘এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধও তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিও আবার আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিকে ঘিরেই সাম্প্রতিক সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।
তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরান যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে আগের চেয়ে আরও তীব্র বিমান হামলা চালানো হবে। যদিও সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত বা ইরানের কাছে কী দাবি জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন সমঝোতার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে সামরিক চাপও স্পষ্টভাবে বজায় রাখা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে তেহরানের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক অঙ্গন এখন নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে প্রয়োগ করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতেই ওয়াশিংটনের এই কৌশল।