আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় এক মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। এতে দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষমতাও আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে বলে তার দাবি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক ও কৌশলগত নেতার নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জোটবদ্ধ অবস্থানই সামরিক অভিযানে সাফল্য এনে দিচ্ছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতির একটি দিক তুলে ধরলেও পুরো চিত্র এখনো জটিল। কারণ, ইরান এখনো বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, এমন দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ভাষণের আরেক অংশে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি এটিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ভাষণ মূলত সামরিক সাফল্য তুলে ধরা এবং অভ্যন্তরীণ সমর্থন শক্তিশালী করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা খোলা থাকবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।