আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার সকালে ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যালয়, সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক প্রধানদের স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
হঠাৎ হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। হামলার সময় স্কুলে প্রায় ১৭০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল এবং অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে।
ইরানও চুপ করে থাকেনি। তারা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলি তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সাইরেন চালু করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।