আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম। স্থানীয়ভাবে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত এই এলাকাটি ঈদের দিন থেকে শুরু করে এখনো মানুষের পদচারণায় মুখর রয়েছে।
ষাটনল, মোহনপুর, এখলাছপুর ও আমিরাবাদসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করছেন। মেঘনার বিস্তৃত জলরাশি, বালুকাময় চর এবং বিকেলের সূর্যাস্ত মিলিয়ে এলাকাটি এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ নিয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হার্ডপয়েন্ট ও গ্রোয়েন এলাকা এখন ঘুরে বেড়ানোর অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নদীর পাড়ে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রলার ভাড়া করে নদী ভ্রমণে বের হচ্ছেন। স্থানীয় মাঝিরাও দর্শনার্থীদের জন্য নৌকা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন।
নদীতীরজুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান। ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা ও আইসক্রিমসহ নানা খাবারের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুখে দেখা গেছে স্বস্তি।
দর্শনার্থীরা জানান, খোলা আকাশ, নদীর ঢেউ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে তারা নিরাপত্তা জোরদার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের পরিবেশ নিরাপদ করতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন অনেকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীপথে টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে এ স্থানটি দেশজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।