আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি এক মাসে অন্তত ১০ দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার মাঝারি মাত্রার ভূকম্পনে দেশের বহু এলাকায় কেঁপে ওঠে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে প্রায় ৫ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাছাকাছি এলাকায়। কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তা স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ভূমিকম্পটি মাঝারি মাত্রার এবং উৎপত্তিস্থল তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে হওয়ায় বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। তবে ঘনঘন ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের মাঝারি বা মৃদু ভূমিকম্প প্রাকৃতিকভাবেই মাঝে মাঝে হয়ে থাকে। এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করায় ভবন নির্মাণে নিয়ম মেনে চলা এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।
এদিকে US Geological Survey জানায়, একই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে প্রায় ৫ দশমিক ৩। পাশাপাশি ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যেও কাছাকাছি মাত্রার কম্পনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, কম্পন অনুভূত হওয়ার পর অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কয়েকটি অঞ্চলেও এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।
চলতি মাসে এর আগেও মিয়ানমার, সিকিম ও সিলেট অঞ্চলে উৎপত্তিস্থল থাকা একাধিক ভূমিকম্পে দেশ কেঁপে ওঠে। বেশিরভাগ কম্পনের মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি হলেও বারবার ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে অস্বস্তি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, জরুরি সময়ে করণীয় জানা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।