আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার দাবির পর তেহরান পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদি ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর সামান্যতম হামলাও হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মার্কিন কোম্পানি জড়িত বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা থাকা জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
ওই মুখপাত্র বলেন, ইরানের তেল স্থাপনায় আঘাত এলে পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো দেশগুলোতে থাকা মার্কিন বিনিয়োগকৃত তেলক্ষেত্রগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী খারগ দ্বীপে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, দ্বীপটিতে থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বেশিরভাগই ধ্বংস করা হয়েছে। খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ধরা হয় এবং এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি এখনো দ্বীপটির মূল তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এই পাল্টাপাল্টি হুমকির প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা