আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উপকণ্ঠ বারুইপুরে এক মুসলিম কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তাকে হত্যা করার আগে যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয় এবং জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশোরীর ফুসফুসে কাদা মিশ্রিত পানি পাওয়া গেছে, যা থেকে তদন্তকারীদের ধারণা, পানিতে ফেলার সময় তিনি জীবিত ছিলেন। এছাড়া তার যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং মাথায় গুরুতর আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ মিলেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে কিশোরীকে সূর্যপুর বাজারের একটি সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তার কিছু দূর পেছনে হাঁটছিলেন এক যুবক, যাকে স্থানীয়রা প্রভাস মণ্ডল হিসেবে শনাক্ত করেছেন। পরদিন সকালে ওই এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রভাস মণ্ডল প্রথমে ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে এবং অভিযুক্তরা ঘটনার সময় মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন।
তদন্তে দুটি সম্ভাবনা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, নির্যাতিতাকে অভিযুক্তরা চিনত এবং সে তাদের শনাক্ত করতে পারায় প্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ধরা পড়ার আশঙ্কায় তার মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান অবস্থায় বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।