আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাকওয়া ও আনুগত্যের বাস্তব প্রকাশ। তাই কোরবানির পশু নির্বাচনেও শরিয়তের নির্দিষ্ট নিয়ম মানা আবশ্যক। সামান্য অবহেলায় ইবাদতের শুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোরবানির জন্য পশু নির্বাচন করতে হলে চারটি মূল বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয়।
১. নির্ধারিত পশু হওয়া
কোরবানির জন্য শুধু গৃহপালিত চতুষ্পদ পশুই গ্রহণযোগ্য। কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন
﴿بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ﴾
অর্থ: গৃহপালিত চতুষ্পদ পশু
— (সূরা আল-হজ: ৩৪)
এ অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু যেমন হাঁস, মুরগি, হরিণ বা বন্য প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।
২. বয়স পূর্ণ হওয়া
শরিয়তে পশুর নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়া জরুরি।
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: অন্তত ১ বছর
গরু ও মহিষ: অন্তত ২ বছর
উট: অন্তত ৫ বছর
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সী ভেড়া যদি এক বছরের মতো সুস্থ ও বড় দেখায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য বলে ফিকহে উল্লেখ রয়েছে।
৩. দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়া
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে দোষযুক্ত পশু নিষিদ্ধ করেছেন। যেমন:
এক চোখ অন্ধ বা স্পষ্টভাবে দুর্বল পশু
গুরুতর অসুস্থ বা চলতে অক্ষম পশু
অধিকাংশ দাঁত পড়ে যাওয়া পশু
শিং গোড়া থেকে ভেঙে যাওয়া পশু
কান বা লেজের বড় অংশ কাটা পশু
হাদিসে বলা হয়েছে,
“চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না, এক চোখ অন্ধ, স্পষ্ট রোগাক্রান্ত, খোঁড়া এবং অতিরিক্ত দুর্বল পশু।”
— (জামে তিরমিজি: ১৪৯৭-১৪৯৮)
৪. নিয়ত ও অংশীদারিত্বের শুদ্ধতা
গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। তবে শর্ত হলো, প্রত্যেকের নিয়ত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কেউ যদি শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে অংশ নেয়, তাহলে পুরো কোরবানির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য পশুর বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিয়ত ও হালাল উপার্জনও গুরুত্বপূর্ণ।