আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় অতিথিরা অংশ নিলেও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরানে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র বিদেশি প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য নির্ধারিত ছিল। শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে রাখা হবে।
সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হাউজ অব সৌদ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিলেও এবার খামেনির জানাজায় রিয়াদ কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান থেকেও কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুপস্থিতি শুধু শোকানুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার বিষয় নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে উপসাগরীয় দেশগুলোর সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানেরও ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার আলোচনা সামনে আসায় দেশগুলো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিতে চায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের বেইজিং চুক্তির মাধ্যমে ইরান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর তেহরানে সৌদি দূতাবাস চালু হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এর কার্যক্রম নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় কাতারের আমির ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নিয়েছিলেন। সেই তুলনায় এবার তাদের অনুপস্থিতি কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: হাউজ অব সৌদ