আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের মাধ্যমে দলীয় প্রধানের পদ শূন্য হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই শূন্যপদে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব গ্রহণের বিধান রয়েছে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য। সে অনুযায়ী তারেক রহমান এখন বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, এমনটাই মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা।
খালেদা জিয়া অসুস্থ ও কারাবন্দি থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তারেক রহমান। তবে মৃত্যুর পরও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অভাবে দলীয় কার্যক্রমে তাকে এখনও ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার কথা। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল প্রচারে কেবলমাত্র বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবে। এ কারণে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রচার শুরুর আগেই বিএনপিকে দলীয় প্রধানের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় প্রধান কে হবেন, তা নির্ধারণের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট দলের। প্রচার শুরু হওয়ার সময় যিনি দলীয় প্রধান থাকবেন, কেবল তার ছবিই ব্যবহার করা যাবে।
বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো ঘোষণা বা কাউন্সিল আয়োজন বাধ্যতামূলক নয়। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও শোকের পরিবেশ বিবেচনায় দলটি এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
দলীয় নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপি সাত দিনের শোক পালন করছে। এমন আবহে তাৎক্ষণিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘোষণা না দেওয়াকেই শালীন ও সম্মানজনক মনে করছেন তারেক রহমান নিজেও।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার পদে বহাল থাকবেন। সে বিবেচনায় গঠনতান্ত্রিকভাবে তারেক রহমানই এখন বিএনপির চেয়ারম্যান।
২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেও তিনি দলীয় নেতৃত্ব পরিচালনা করে আসেন। সম্প্রতি তিনি সপরিবারে দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন।