আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে একটি মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস। অবরোধ ও যুদ্ধজনিত সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না পৌঁছানোয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মানুষরা। ফলে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ছে।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে। তার ভাষায়, হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ভাইরাসটির প্রকৃতি ফ্লু বা করোনাভাইরাসের মতো হতে পারে এবং এটি সব বয়সী মানুষের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। টিকাদানের অভাব, অপুষ্টি এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধজনিত মানসিক চাপ এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আক্রান্ত রোগীরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, গাঁট ও হাড়ের ব্যথা, বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব উপসর্গ নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে।
বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো, যারা অস্থায়ী তাঁবুতে ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে বসবাস করছে, তাদের জন্য এই ভাইরাস মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও গাজার স্বাস্থ্য খাতের এই অবনতি থামেনি।
হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসারের ওষুধ, কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ মৌলিক চিকিৎসা উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মানসিক রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার বন্ধ থাকায় রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ডা. আবু সালমিয়া অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়ার ফলে এই মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আটকে রেখে অপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে পরিকল্পিতভাবে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ অবাধে প্রবেশের ব্যবস্থা না করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।