আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির জন্য নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট’ (এনজিএসি) গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন পরিচালনার জন্য বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত মৌলিক সেবা পুনরায় চালু করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলা। কমিটির জেনারেল কমিশনার আলী শাথ জানান, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধার তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার জন্য এসব সেবা পুনর্গঠন অপরিহার্য।
এক বিবৃতিতে আলী শাথ জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ এর তত্ত্বাবধানে। পুনর্গঠন শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গাজার সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় এনজিএসি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা, পুনর্গঠন তদারকি এবং ভবিষ্যতে স্বনির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’।
তবে এনজিএসির কাঠামোতে ইসরায়েলপন্থী সদস্যদের প্রভাব এবং সীমিত ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বকে স্থানীয় জনগণ আশঙ্কার চোখে দেখছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকা এখনও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গাজা ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘসহ প্রচলিত আন্তর্জাতিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে নতুন মডেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে অনেক ফিলিস্তিনি আশঙ্কা করছেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নকে আড়াল করে মূলত অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিকে বেশি গুরুত্ব দেবে।