আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী বিমান হামলায় অন্তত ৪৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করার পর দখলদার ইসরায়েল হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) দিনভর গাজার দক্ষিণাঞ্চল ও রাফা এলাকায় টানা হামলার পর ইসরায়েলের এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক মহল “নাটকীয় ও প্রশ্নবিদ্ধ” বলে মন্তব্য করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, “রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকে গাজায় সিরিজ হামলার পর প্রতিরক্ষা বাহিনী আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে।”
তবে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির আগে গাজায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম আল-কুদস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাফা এলাকায় ভোরের দিকে চালানো এক বিমান হামলায় একটি পরিবারের সাতজন সদস্য একই সঙ্গে প্রাণ হারান। এ ছাড়া খান ইউনুস ও দেইর আল-বালাহ অঞ্চলেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের দাবি, রাফা এলাকায় হামাসের হামলায় তাদের দুই সেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়। তবে হামাস এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, রাফায় এমন কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ও প্রায় প্রতিদিনই গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলায় অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
রোববারের হামলার পর ইসরায়েলি সরকার প্রথমে গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কিছুটা নরম অবস্থান নিলেও, ত্রাণ প্রবেশের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি তারা।
জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত টর ওয়েনসল্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর পুনরাবৃত্ত হামলা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন টেকসই শান্তি।”
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আল-মিজান বলেছে, “ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি মানে কেবল নতুন হামলার আগে সামান্য বিরতি নেওয়া।”
বর্তমানে গাজার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন অবস্থায় আছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮০ শতাংশ এখন মানবিক সংকটে রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল