আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে মার্কিন মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখন ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। অনেকেই এটিকে কৌশলগতভাবে ইউক্রেনকে ‘ত্যাগ’ করার মতো পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত কিছু অস্ত্র অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত অস্ত্র সরবরাহে টান পড়লে রাশিয়ার আক্রমণের মুখে কিয়েভ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
এছাড়া জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করছে, যাতে সেখানে থাকা মিত্র দেশ ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে চলমান সংঘাতের ব্যয়। এই যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তাদের প্রতিরক্ষা চাহিদা মিত্রদের জানিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অনিশ্চিত বলেই মনে করছে কিয়েভ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেন থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়, তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম