আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে চারটি মুসলিম দেশের উদ্যোগে। মিসর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক-এই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠককে অনেক বিশ্লেষক আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পথ খোঁজা। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ইরানের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশলগত উদ্যোগ বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চার দেশের এই সমন্বয় শুধু তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনের চেষ্টা নয়, বরং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার একটি সূচনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈঠকের পর পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়, যার মাধ্যমে পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পায়। এই পদক্ষেপ আলোচনায় ইসলামাবাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এই উদ্যোগকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠেছে। অতীতে সৌদি আরবসহ কিছু দেশ গোপনে ইরানবিরোধী অবস্থান নিয়েছিল বলে অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান উদ্যোগে তারা নতুন কূটনৈতিক পথ খুঁজছে-এমন ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
তুরস্ক এই জোটে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, চার দেশের এই উদ্যোগকে একদিকে যেমন শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি নতুন আঞ্চলিক জোট রাজনীতির সূচনা বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: The Guardian