আওয়ার টাইমস নিউজ
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ এ বৈঠক শুরু হয়। দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত চীনের বীর শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া সফর শেষে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোসে অংশ নিতে চীনের দালিয়ান সফর করেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে তিনি বেইজিং পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও একটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি চীনের বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।