আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক’ দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাঁচার জন্য মিথ্যা বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, এসব অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আপনারা জাতির সামনে বলছেন আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের হ্যাক-ম্যাক কিছুই হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে পারেন, তারা নির্বাচনের পরে কত বড় মিথ্যা বলতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়।”
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দলটি দেশের নারীদের ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এবং নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মজীবী নারী ও মা-বোনদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য তারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, “একদিকে আপনারা নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, অন্যদিকে আবার নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠিয়ে মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। হয়তো কাউকে সামান্য কিছু টাকা পাঠাবেন, কিন্তু এরপর আর খোঁজ পাওয়া যাবে না।”
এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, জামায়াতের নারী কর্মীরাও তো ঘরের বাইরে বের হয়ে রাজনৈতিক কাজ করেন। তাহলে তাদের নেতারা তাদের সম্পর্কে কী ধরনের চিন্তা পোষণ করেন, সেটি কি প্রশ্ন করার বিষয় নয়?
তারেক রহমান ইসলামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী নারী। বদর যুদ্ধের সময় মুসলমানদের রসদ ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। একইভাবে হজরত আয়েশা (রা.) আহত সৈনিকদের চিকিৎসা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যারা নিজেদের দেশের কর্মজীবী নারী, মা ও কন্যাদের নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে, তাদের কাছ থেকে জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে না।” বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে কোনো দেশ এগোতে পারে না। নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। সে লক্ষ্যেই বিএনপি অতীতে মেয়েদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে করেছে এবং ভবিষ্যতেও নারীদের ক্ষমতায়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি গোষ্ঠী নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ভোট গণনা বিলম্বের অজুহাতে কেউ যেন জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কৃষকদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে, কৃষিকার্ড চালু করা হবে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য আইটি পার্কসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনসভায় যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।