আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা রাতভর উদ্বেগের মধ্যে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার সুস্থতার জন্য দেশজুড়ে দোয়ার ঢল।
বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে সংক্রমণের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘদিনের আর্থ্রাইটিস—সব মিলিয়ে জটিলতা আরও বেড়েছে। একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে। চিকিৎসক দল জরুরি পরামর্শে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করে। প্রয়োজন হলে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানা যায়।
শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস খোঁজ নিতে হাসপাতালে প্রতিনিধিদল পাঠান এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। তিনি জানান, চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি রাখা হবে না এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হবে।
রাত গভীর হলেও হাসপাতালের ফটকে অপেক্ষা কমেনি। তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে খালেদা জিয়ার অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার সহানুভূতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একইভাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দোয়া কামনা করেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতারা সেগুলো উপেক্ষা করে অফিসিয়াল তথ্য জানাতে অনুরোধ জানান। রাত ১২টার পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, মেডিকেল বোর্ড তার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করছে এবং তিনি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণেই আছেন।
নেতারা জানান, দূর থেকে কথা বললেও খালেদা জিয়া তাদের চিনতে পেরেছেন এবং সালামের উত্তর দিয়েছেন। তবে হাসপাতালের ভিড় চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এজন্য বাইরে অবস্থান করার অনুরোধ করেন বিএনপি মিডিয়া উইং।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, আর ২৭ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউতে নেওয়া হয়। লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি পরামর্শ দিচ্ছেন।