আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন হাজারো তরুণ-তরুণী। রাজধানী নয়াদিল্লাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অল্প সময়েই বড় তরুণ আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে কয়েক মাস আগে মজার ছলে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরে সদস্য নিবন্ধনের আহ্বান জানালে হাজারো মানুষ এতে যুক্ত হন।
গত ৯ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেয় সংগঠনটি। সেই কর্মসূচিতে দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনে নতুন গতি আসে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনের পর। ২৮ জুন তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। বর্তমানে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে। এক শুনানিতে তিনি ভুয়া সনদধারীদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও আন্দোলনকারীরা সেই নাম গ্রহণ করে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
চলতি বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়া হলে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনার মানসিক চাপে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
সংসদ চলো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ছয়টি মামলা করেছে। তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে আলোচনা কোনো সরকারি দপ্তর বা মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, যন্তর মন্তর বা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে।
এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সরকারের সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক তরুণ আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতের তরুণরাও সংগঠিত আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি