আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৯ মার্চ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
‘নো কিংস’ আন্দোলনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে সবচেয়ে বড় সমাবেশ দেখা যায়। একইসঙ্গে রোম, প্যারিস ও বার্লিনেও সমান্তরাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা এবার শুধু বড় শহরেই নয়, রক্ষণশীল এলাকাগুলোতেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, “এই আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যায় নয়, বরং তারা কোথায় বিক্ষোভ করছে, সেটিতেও।”
সবচেয়ে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর আওতায় এই এলাকায় ৩ হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। শনিবারের বিক্ষোভে তাদের স্মরণ করা হয়।
মিনেসোটার সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সংগীত পরিবেশন করেন রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ। এছাড়া অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো এক ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সাহস ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্ট এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সাইনবোর্ড হাতে জড়ো হন। সেখানে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে যেতে দেব না। জনগণই আমেরিকার প্রকৃত শক্তি।”
উল্লেখ্য, ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আগের দুটি কর্মসূচি গত বছরের জুন ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।