আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ড্রোনাল্ড ট্রাম্প যে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে ইসরাইল এর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, যেকোনো চুক্তিতে তাদের দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে। তবে ভেতরে ভেতরে চুক্তির শর্ত, এর কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। এ জন্য তিনি কতটা ছাড় দিতে পারেন, সেটিই এখন ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার আওতায় সম্ভাব্য এক মাসের যুদ্ধবিরতি তাদের সামরিক কৌশলে বাধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এটি অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে যাবে, এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ইউরেনিয়াম ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলে দেশটি যেকোনো সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে।
এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। চুক্তির পর ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না, এমন নিশ্চয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তারা আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েল বর্তমানে প্রস্তাবের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বিশ্লেষকদের ধারণা, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় যাওয়ার আগে ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আরও আঘাত হানার সুযোগ খুঁজছে।
তাদের লক্ষ্য, ইরানের সামরিক সক্ষমতা যতটা সম্ভব দুর্বল করে তারপর আলোচনার টেবিলে বসা, যাতে ভবিষ্যতে ইরান পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে।