আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ বড় পতন দেখা দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে সপ্তাহের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দর নেমে গেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার লেনদেন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি কমে যায়। গ্রিনিচ মান সময় সকাল পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারেও দর কমে প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বাজারে চাপের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল চাপ এসেছে শক্তিশালী ডলারের কারণে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে স্বর্ণের পরিবর্তে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাও স্বর্ণের বাজারকে দুর্বল করে তুলেছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে হামলার দাবি ও পাল্টা অস্বীকার বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের বদলে ডলারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ সুদের হার উচ্চ অবস্থায় থাকলে স্বর্ণে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনও তুলনামূলক ধীর ছিল। চীন, জাপান ও যুক্তরাজ্যে সরকারি ছুটি থাকায় বড় কিছু বাজার বন্ধ ছিল, যার প্রভাব পড়ে লেনদেনের গতিতে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও পতন দেখা গেছে। রুপার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দরও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্ববাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব খুব শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে। স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা