আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের রুক্ষ পাহাড় আর গিরিপথের আড়ালে পরাশক্তিদের কোন গোপন খেলা চলছে তা নিয়ে এক রহস্যের জাল উন্মোচন করেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাসুদ আন্দারাবি।
তিনি দাবি করেছেন যে বাইরে থেকে তালেবানকে যতটা শক্তিশালী দেখাচ্ছে তার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর শূন্যতা যা পূরণ করতে তারা এক অদৃশ্য বৈধতার খোঁজ করছে।
এই খোঁজের অংশ হিসেবে কাবুলের শাসকরা এমন কিছু আন্তর্জাতিক চাল চালছে যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্দারাবির এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস অনুযায়ী খুব শীঘ্রই আফগানদের চোখ নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে এক দূরবর্তী প্রাচ্যের শক্তিশালী দেশ এবং তাদের তৈরি বিশেষ অ্যালগরিদম।
চীনের তৈরি 'ডিজিটাল সিল্ক রোড' প্রকল্পের আড়ালে আফগান ভূখণ্ডে যে বিশাল গোপন নজরদারি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে তিনি বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের অলক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির জাল কীভাবে পুরো একটি দেশের স্বাধীনতাকে বেইজিংয়ের ডিজিটাল খাঁচায় বন্দি করছে তা এখন বড় প্রশ্ন।
একই সাথে বরফাবৃত ক্রেমলিন কেন হঠাৎ তালেবানকে পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে মরিয়া হয়ে উঠল তার পেছনের রহস্যময় কূটনৈতিক সমীকরণও তিনি ফাঁস করেছেন।
মস্কোর এই চালে রয়েছে নিজেদের সীমানা সুরক্ষিত রাখার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল যা হয়তো মধ্য এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ডুরান্ড লাইনের ওপার থেকে যেখানে এক সময়ের অদৃশ্য বন্ধু ও পরম পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান এখন পরিণত হয়েছে চিরশত্রুতে।
একটি গেরিলা গোষ্ঠীকে ক্ষমতার কেন্দ্রে বসানোর পেছনে ইসলামাবাদের যে হিসাব-নিকাশ ছিল তা কীভাবে উল্টো বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ধেয়ে আসছে তা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান তথা টিটিপির গোপন তৎপরতা ও তাদের পেছনে কাবুলের প্রচ্ছন্ন ছায়া পাকিস্তানকে এক গভীর সংকটে ফেলেছে।
এদিকে হিমালয়ের কোল ঘেঁষে নয়াদিল্লি কীভাবে তালেবানের বিশেষ কিছু উপদলের সাথে গোপনে তাদের যোগাযোগ ও ছায়া কূটনীতি বজায় রাখছে তাও উঠে এসেছে এই আলোচনায়।
কোনো প্রকাশ্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়াই ভারতের এই বিশেষ গোয়েন্দা ভিত্তিক কৌশল ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে।
আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে পর্দার আড়ালে চলা এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের ভাগ্য এক অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে এগোচ্ছে।
পরাশক্তিদের নিজেদের স্বার্থের সংঘাত এবং তালেবানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই আগামী দিনে কাবুলের মাটিতে নতুন কোনো ট্র্যাজেডি ডেকে আনবে কিনা তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
মৌলিক অধিকার বঞ্চিত আফগান জনগণের চাপা ক্ষোভ এবং বিশ্বশক্তির উদাসীনতা দীর্ঘমেয়াদে দেশটিকে আবারও এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে।
তালেবানের ওপর থেকে বৈশ্বিক চাপ ও নজরদারি সরে যাওয়ার অর্থ হলো তাদের কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থা আরও নির্মম রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জেঁকে বসা।
বিশ্বের তাবড় তাবড় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন কাবুলের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে ঠিক তখনই সাবেক এই স্পাই চিফের এমন বিস্ফোরক তথ্য নতুন এক আলোড়ন সৃষ্টি করল।
পর্দার অন্তরালের এই সব গোপন আঁতাত এবং পরাশক্তিদের নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন রহস্যময় ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করছে তা সময়ই বলে দেবে।
ভূ-রাজনীতির এই বিপজ্জনক দাবার বোর্ডে পরবর্তী চালটি কে চালবে এবং তার পরিণতি কী হবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।