আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আভাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। একই সময়ে দুর্বল হয়েছে মার্কিন ডলার। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারেও। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে ৪ হাজার ৫৬০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সহজ হয়ে গেছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় ধরনের কমেছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাপ কমবে এবং মূল্যস্ফীতিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তাড়াহুড়া করা হবে না। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের কারণে মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রয়টার্স