আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির রাজপথ এখন এক উত্তপ্ত অগ্নিগর্ভ ময়দানে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, তরুণদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থানকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে চড়াও হয়ে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের শীর্ষ নেতাদের বলপ্রয়োগ করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জনরোষ আর রাজপথের তোপ দেখে রাজনৈতিক মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে, নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী প্রশাসনিক ভিত্তিমূল কি তবে ধসে পড়ার মুখে?
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে লোক কল্যাণ মার্গে মোদির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি থেকে। সেখানে দীর্ঘ সময় মাটিতে বসে বিক্ষোভ করেন বিরোধী নেতারা। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী শিবির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাবদিহিতার দাবিতে অনড় থাকেন। পুলিশ জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ব্যাপক ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ভ্যানে তোলার মুহূর্তেও হুঙ্কার দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “লাঠি ও প্রিজন ভ্যান দিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষোভ ও রাজপথের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না”।
বর্তমানে দিল্লির রাজপথে নিরাপত্তা বাহিনী কড়া বলয় তৈরি করলেও পরিস্থিতি থমথমে ও নিয়ন্ত্রণহীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারতীয় তরুণ সমাজ আজ রাহুল গান্ধীর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ। বিরোধী শিবিরের এই অভূতপূর্ব জোয়ার ও সরকারবিরোধী তীব্র দাবানল সামাল দেওয়া নরেন্দ্র মোদির ১০ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাহুল গান্ধীর এই রাজনৈতিক লড়াই কি শেষ পর্যন্ত মোদি সরকারের ক্ষমতার মসনদ টলিয়ে দেবে—তা দেখতে বিশ্ব রাজনীতি এখন দিল্লির রাজপথের দিকে তাকিয়ে আছে।