আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে জাপান ও নেদারল্যান্ডস। দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জাপান। শেষ মুহূর্তের গোলে পরাজয় এড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে এশিয়ার শক্তিশালী দলটি।
ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ছিল টানটান উত্তেজনা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ডাচরা। কোডি গাকপোর তৈরি করা সুযোগ থেকে ডনিয়েল মালেন শক্তিশালী শট নিলেও দুর্দান্ত সেভ করেন জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি।
এরপরও একাধিকবার জাপানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে নেদারল্যান্ডস। ৩৪তম মিনিটে মালেনের হেড এবং ৩৬তম মিনিটে গাকপোর প্রচেষ্টা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।
জাপানও বসে থাকেনি। ৪৩তম মিনিটে কেইতো নাকামুরা গোলের সুযোগ পেলেও তার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। যোগ করা সময়েও আয়াসে উয়েদা একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫১তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় নেদারল্যান্ডস। রায়ান গ্রাভেনবার্খের ক্রস থেকে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের হেড জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপিয়ান দলটি।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি জাপান। ৫৭তম মিনিটে কেইতো নাকামুরার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে জাপান। কিন্তু ৬৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে নিখুঁত শটে গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১।
দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। ম্যাচে গতি বাড়াতে একের পর এক পরিবর্তন আনেন কোচ। মাঠে নামানো হয় জুনিয়া ইতো, কোকি ওগাওয়া এবং আরও কয়েকজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসও জয় নিশ্চিত করতে মেমফিস ডিপাই, টেয়ুন কুপমেইনার্স ও ইউরিয়েন টিম্বারকে মাঠে নামায়। ফলে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
৭৪তম মিনিটে গাকপো ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে আবারও জাপানের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি। তার গুরুত্বপূর্ণ সেভ ম্যাচে জাপানকে টিকিয়ে রাখে।
ম্যাচের শেষদিকে পুরো দল নিয়ে আক্রমণে ওঠে জাপান। নিরলস চেষ্টার ফলও পেয়ে যায় তারা। ৮৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে নেওয়া কর্নার থেকে কোকি ওগাওয়ার হেড পেয়ে বলের গতিপথ বদলে জালে পাঠান দাইচি কামাদা। অসাধারণ এই গোলে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে জাপান।
কামাদার গোলের পর স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে জাপানি সমর্থকদের মধ্যে। শেষ কয়েক মিনিটে দুই দলই জয়ের জন্য চেষ্টা করলেও আর কোনো গোল হয়নি।
ফলে রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়। দুইবার পিছিয়ে পড়েও জাপানের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপে এই এক পয়েন্ট জাপানের জন্য হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দুইবার এগিয়েও জয় নিশ্চিত করতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেদারল্যান্ডসকে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ গ্রুপ ‘এফ’-এর লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলেছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুই দলের সামনেই থাকবে নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।