আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম। একসময় প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া এই রোগের হঠাৎ পুনরুত্থানে বড় ধরনের চাপে পড়েছে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট, আইসোলেশন ঘাটতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কিছু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সীমিত আকারে সংক্রমণ দেখা গেলেও পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে রাজশাহীতে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর। গত প্রায় তিন সপ্তাহে সারা দেশে অন্তত ৯৪ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব মৃত্যু সরাসরি হামজনিত নয়।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও পরিস্থিতিকে আকস্মিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আগামী ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে টিকা সংগ্রহে ৬০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর একটি অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে দ্রুত টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ‘হাম ওয়ার্ড’ চালু করা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য ভেন্টিলেটর এবং শয্যা বাড়ানোর কাজও চলছে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাদের মতে, রোগী শনাক্তে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্যক্রম চালাতে হবে এবং আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখতে হবে। না হলে হাসপাতালগুলোতেই সংক্রমণ আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এক মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমানো এবং দুই মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।