আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ের এই ধসকে বিশ্লেষকরা গত প্রায় ১৭ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে দেখছেন। তবে এই পরিস্থিতি শুধু আতঙ্ক নয়, বরং নতুন বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে আলোচিত।
বিশ্ববাজারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে স্বর্ণের দামে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে। ২০০৮ সালের পর এমন বড় ধস খুব কমই দেখা গেছে। এর আগে টানা কয়েক মাস স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও হঠাৎ করেই বাজারে এই উল্টো চিত্র দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার কমানোর বদলে তা স্থিতিশীল রাখা বা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে গেছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ থেকে সরে গিয়ে ডলারকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের দামে।
আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘প্রফিট বুকিং’। গত বছর স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় অনেক বড় বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে বাজারে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করেন। এতে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম দ্রুত কমে যায়।
এদিকে রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও তাদের রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বিক্রি করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে এসব দেশ বাজারে স্বর্ণ ছাড়ায়, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
তবে এই পতনকে পুরোপুরি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের টানা উত্থানের পর বাজারে এমন সংশোধন স্বাভাবিক। এটি ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান অস্থিরতা কাটিয়ে উঠলে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে পারে। বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম আবারও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
তাই প্রশ্নটা এখন একটাই, এই পতন কি বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ, নাকি আরও বড় ধসের আগে সতর্কবার্তা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি সুযোগ হতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে লাভের আশায় বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিশ্লেষণ
#GoldMarket #Investment #GlobalEconomy #ভাইরাস