আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির মধ্যে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের সুবিধার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মূল্যস্ফীতির চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কম বেতনের কর্মীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম ধাপেই বেশি সুবিধা পেতে পারেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হতে পারে।
সরকারি পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে রয়েছেন। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক আলোচনায় এমন একটি কাঠামো বিবেচনা করা হচ্ছে যেখানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির বড় অংশ প্রথম বছরেই পেতে পারেন। অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন সমন্বয় অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তবে পুরো সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় চাপবে। তাই আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আয় এবং মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত। ফলে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীদের ওপর।
সরকারি সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ ও আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।