আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস রিপোর্টার: আব্দুর রহিম চিশতিয়া।
ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটারদের চলমান বয়কটের জেরে বিপিএলের ম্যাচ স্থগিত থাকায় ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভে জড়ায়। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড বয়কটের ডাক দেওয়ায় কোনো দলই মাঠে নামেনি। দীর্ঘ সময় খেলা শুরু না হওয়ায় স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষমান দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ স্টেডিয়ামের মূল গেটের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় স্টেডিয়ামের আশপাশে থাকা কিছু বিলবোর্ড ও ব্যানারে ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুরো এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার রাতে, যখন বিসিবির অর্থ বিষয়ক পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা অনেক ক্রিকেটার অবমাননাকর বলে দাবি করেন। এর প্রতিবাদে কোয়াব রাতেই বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দেয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় এক সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, সম্মানহানির বিচার ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন না।
বিসিবির সিদ্ধান্ত
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোয়াবের দাবি ছিল তাকে বোর্ড থেকেই সম্পূর্ণ অপসারণ করা। বিসিবির এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটাররা সন্তুষ্ট না হওয়ায় বয়কট প্রত্যাহার করা হয়নি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ক্রিকেটারদের অবস্থানের কথা বিবেচনায় বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের কমেন্ট বক্স ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে লক্ষ লক্ষ ক্রিকেট সমর্থক নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে ‘সাহসী’ ও ‘বাস্তবসম্মত’ বলে সমর্থন জানাচ্ছেন।
সমর্থকদের বড় একটি অংশের দাবি, নাজমুল ইসলাম বিসিবির হাতে গোনা সৎ পরিচালকদের একজন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা নেই এবং অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক মন্তব্যে বলা হয়েছে, ক্রিকেটাররা দেশের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন—এমন ক্ষোভই এখন সামাজিক মাধ্যমে প্রবলভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।