আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অন্তত ৪০ জন যাত্রীর মরদেহ এখনও বাসের ভেতরে আটকে রয়েছে।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ বাসটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বহু যাত্রী এখনও পানির নিচে আটকা রয়েছেন। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং বিশেষ সহকারী দল। বর্তমানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল নিবিড়ভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ নিশ্চিত করেছেন, এখন পর্যন্ত নদী থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ দুটি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। মৃত দুইজন হলেন রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়ার ভবানিপুরের ডা. নুসরাত (২৯) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সূত্র জানায়, বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় একটি ফেরি ধাক্কা দিলে পন্টুন প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাস সরাসরি গভীর পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র ৫-৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় ডুবন্ত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।