আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ: পদ্মা নদীতে বাস ডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় হৃদয়বিদারক এক গল্প সামনে এসেছে। ১৮ পারা কুরআনের হাফেজা এক কন্যাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার অসহায় বাবা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
দুর্ঘটনার পর থেকে সেই বাবার চোখে শুধু শূন্যতা আর বুকভরা আহাজারি। কাঁপা কণ্ঠে তিনি জানান, বাসটি নদীতে ডুবে যাওয়ার পর তার স্ত্রী কোনোভাবে বের হতে পারলেও, তার আদরের মেয়েটি আর বের হতে পারেনি।
তিনি বলেন, “আমার মেয়েটা কুরআনের ১৮ পারা মুখস্থ করেছিল… কত স্বপ্ন ছিল ওকে নিয়ে। আল্লাহর পথে রাখব, মানুষ বানাব… কিন্তু আজ সব শেষ হয়ে গেল।” কথাগুলো বলতে বলতেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মেয়েটি ছিল অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও ধর্মপ্রাণ। অল্প বয়সেই কুরআনের বড় একটি অংশ মুখস্থ করায় সবাই তাকে ভালোবাসত ও সম্মান করত। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে, উদ্ধার অভিযান চললেও অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বজনরা ঘাটে ভিড় করে প্রিয়জনদের খোঁজে ছুটছেন, আর প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে। একটি স্বপ্ন, একটি সম্ভাবনা, পদ্মার ঢেউয়ের সঙ্গে হারিয়ে গেল এক নিষ্পাপ প্রাণ।
আকাশভরা কান্না আর বুকভরা বেদনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এমন দুর্ঘটনা আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে?