আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক এখন আর কেবল বোর্ডরুম বা ক্রিকেটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বিষয়টি সরাসরি গিয়ে ঠেকেছে ক্রিকেটপ্রেমী সাধারণ মানুষের আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মন্তব্য বিভাগ এবং বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বিপুলসংখ্যক সমর্থক নাজমুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সমর্থকদের বক্তব্যে যা উঠে এসেছে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দেওয়া মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ সক্রিয় সমর্থকের মতামত এক জায়গায় মিলেছে। তাদের মতে, নাজমুল ইসলামের মতো স্পষ্টভাষী ও কঠোর অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তা যদি বাংলাদেশ ক্রিকেটে সক্রিয় থাকেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলার মধ্যে না রাখলে পারফরম্যান্সের উন্নতি সম্ভব নয়। তাদের ভাষায়, কঠিন শাসন ও জবাবদিহিতা থাকলেই খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে বাধ্য হয়। এই জায়গায় নাজমুল ইসলামকে তারা একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন, যিনি দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির কথা প্রকাশ্যে বলতে পিছপা হন না।
পদত্যাগ ইস্যুতে সমর্থকদের কড়া অবস্থান, নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব যে অবস্থান নিয়েছে, সেটির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক সমর্থক। মন্তব্যগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ বলছেন—নাজমুলকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে তারা মাঠে নেমে প্রতিবাদ জানাতে প্রস্তুত। সমর্থকদের একটি অংশের বক্তব্য, ক্রিকেট বোর্ড বা খেলোয়াড়দের চেয়েও বড় শক্তি হচ্ছে দর্শক, আর সেই দর্শকদের মতামত উপেক্ষা করলে এর প্রভাব মাঠ ও গ্যালারি-দুই জায়গাতেই পড়বে।
এদিকে সমর্থকদের অনেক মন্তব্যে অতীতের ঘটনাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও নেতৃত্বসংকটের কারণে তখন দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাঠের পারফরম্যান্সে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তার প্রয়োজন, যেখানে নাজমুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট একটি সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে খেলোয়াড়দের দাবি, অন্যদিকে সমর্থকদের প্রত্যাশা-দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বোর্ডের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটাও স্পষ্ট, নাজমুল ইসলামকে ঘিরে যে গণসমর্থন তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম ক্রিকেট প্রশাসকের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিসিবির ভূমিকা ও সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ক্রিকেটাঙ্গন। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের মধ্যে এই টানাপোড়েন কীভাবে সমাধান হয়, তার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী দিনের পথচলা।