আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পুরান ঢাকায় চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় মূলহোতাসহ জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের একজন মাহমুদুল হাসান মহিন—যিনি এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত। অপরজন তারেক নামের এক সহযোগী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সোহাগ ও হামলার সঙ্গে জড়িত মহিন, টিটু, মনিরসহ অনেকে স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে তারা কোনো পদধারী ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ও পুরোনো বৈদ্যুতিক তারের ব্যবসা করতেন। ওই এলাকায় তামার তার ও সাদা তারের একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই ব্যবসার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের হাতে। তা দখলে নিতে মহিন ও টিটু গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে চাপ তৈরি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এবং ব্যবসার শর্ত না মানায় দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, সোহাগকে বাসা থেকে ডেকে এনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাকে সড়কে ফেলে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর লাশের ওপর দাঁড়িয়ে একের পর এক কিলঘুষি ও লাথি মারছিল একদল যুবক। এই নৃশংসতা শত শত মানুষের সামনেই ঘটে, কিন্তু আতঙ্কে কেউ এগিয়ে যায়নি।
নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫–২০ জনকে আসামি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
ডিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি মো. ইয়াসিন শিকদার বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে মূলহোতা মহিন ও আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে টিম মাঠে আছে।”
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।