আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকা ও নিচু দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে
ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে মালদ্বীপ, টুভালু, কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সলোমন দ্বীপপুঞ্জসহ একাধিক দ্বীপ রাষ্ট্র। এর মধ্যে অনেক অঞ্চলে ইতোমধ্যেই ভূমি ক্ষয় ও পানির চাপ বাড়তে শুরু করেছে।
মালদ্বীপে ২০৫০ সালের মধ্যে বেশিরভাগ দ্বীপ বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টুভালুর প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা শতাব্দীর শেষে পানির নিচে চলে যেতে পারে।
বাংলাদেশও রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ হারাতে পারে। এতে প্রায় দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়াকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে।
উন্নত দেশ ও ঐতিহাসিক শহরও ঝুঁকিতে
শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, উন্নত দেশ ও বিখ্যাত শহরও ঝুঁকির বাইরে নয়। এর মধ্যে রয়েছে ইতালির ভেনিস, যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি এবং নেদারল্যান্ডস।
ভেনিস প্রতি বছর ধীরে ধীরে নিচে বসে যাচ্ছে। মায়ামিতে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ ও ভূমির গঠনগত কারণে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বড় অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে হওয়ায় দেশটি সবসময় ঝুঁকিতে থাকে।
তালিকায় আরও কয়েকটি অঞ্চল
নাউরু, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি এবং বাহামাসসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলও এই ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই অঞ্চলগুলো হারিয়ে গেলে শুধু মানচিত্র নয়, বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।